সুষম খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির নির্দেশ: প্রধানমন্ত্রী

0

দেশের জনগণের পুষ্টির চাহিদা পূরণে সুষম খাদ্য গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে এ ব্যাপারে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার সকালে ‘জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস-২০২১’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ নির্দেশ দেন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে খাদ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ সম্পর্কিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুষম খাদ্য গ্রহণের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা একান্তভাবে জরুরি ও প্রয়োজন। এটা নিরাপদ খাদ্যের মধ্যেও পড়বে বলে আমি বিশ্বাস করি।
জনগণ বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু ও গর্ভবতী নারীরা পুষ্টির জন্যে কীভাবে এই সুষম খাবার গ্রহণ করবে সে বিষয়ে তাদের সচেতন করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে একটি অনুরোধ করবো- নিরাপদ খাদ্যের জন্য কেবল ল্যাবরেটরি টেস্ট করলেই হবে না সেই সঙ্গে আরেকটি কাজ করতে হবে- সুষম খাদ্য কীভাবে গ্রহণ করতে হবে তা প্রচার করতে হবে। খাদ্যটা কীভাবে নিলে সেটা সুষম হবে, সেটা যেমন মাথায় রাখতে হবে তেমনি প্রচারেরও ব্যবস্থা করতে হবে।
সরকার প্রধান বলেন, অতীতে দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত দেশের মানুষদের পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা না থাকায় লবণ-মরিচ দিয়ে পেট ভরে চারটে ভাত খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করলেও এখন কিছুটা আমিষও ক্রয় করতে পারছে।
মানুষের ক্রয় ক্ষমতা আরো যাতে বাড়ে, তাদের যেন আর্থিক সচ্ছলতা আসে সেজন্যই তার সরকার নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় খাদ্যে ভেজাল দেয়ার কঠোর সমালোচনা করে এ বিষয়েও জনসচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি আইন প্রয়োগে কঠোর হওয়ার জন্যও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা দু’পয়সা বেশি আয়ের জন্য খাদ্যে ভেজাল দেন বা পচা, গন্ধ, বাসি খাবার পরিবেশন করে থাকেন। নিজের লাভের জন্য এমনভাবে মানুষের ক্ষতি আর করবেন না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ব্যাপারে একদিকে যেমন সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে, অন্যদিকে কঠোর হাতে তা দমন করতে হবে। দুদিকেই ব্যবস্থা নেয়া একান্তভাবে দরকার। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ব্যবস্থাগুলো আপনাদেরকেই নিতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে ১০০টি খাদ্যশিল্পে ‘সেফ ফুড প্ল্যান’ নেয়া হচ্ছে, যা সারাদেশেই বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। এটিকে একেবারে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে। এছাড়া দেশে কেন্দ্রীয়ভাবে ফুড টেস্টিং ল্যাব প্রতিষ্ঠার যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তা বিভাগীয় পর্যায়েও করতে হবে।
খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোছাম্মাৎ নাজমানারা খানুম স্বাগত বক্তব্য রাখেন। গণভবন প্রান্তে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালসহ গণভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মুজিববর্ষ উপলক্ষে খাদ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের রচনা এবং কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়। খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন।