সম্রাট গ্রেফতার, সঙ্গে সহযোগী আরমানও

0

অনলাইন ডেস্ক:
ক্যাসিনোকাণ্ডে আলোচিত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৭)। শনিবার রাত ১২টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সহযোগী আরমানসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়।

আজ রোববার (৬ অক্টোবর) তাকে আদালতে তোলা হবে বলে জানা যায়।

ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক জানিয়েছেন, ৫ ঘণ্টার অভিযান শেষে চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জশ্রীপুর থেকে রাত ১টায় সম্রাটকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় র‌্যাব।

এর আগে, রাজধানী বনানী থেকে সম্রাটকে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তখন তা নিশ্চিত করেনি।

অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর ক্লাবপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে ক্যাসিনো ব্যবসা চালিয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন সম্রাট।

গোয়েন্দা সূত্র মতে, যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের অফিস কাকরাইলে রাজমণি সিনেমা হলের উল্টোপাশে (পশ্চিম)। সেখানে গভীর রাত পর্যন্ত ভিআইপি জুয়া খেলা চলতো। প্রতিদিনই ঢাকার একাধিক বড় জুয়াড়িকে সেখানে জুয়া খেলার আমন্ত্রণ জানানো হত। কিন্তু সম্রাটের অফিসে খেলার নিয়ম ভিন্ন। সেখান থেকে জিতে আসা যাবে না। কোনো জুয়াড়ি জিতলেও তার টাকা জোরপূর্বক রেখে দেয়া হত।

এর আগে, গত সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফকিরেরপুলের ইয়াংমেন্স ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনোর মালিক যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করা হয়। রাজধানীর ক্যাসিনো ব্যবসায় খালেদের সঙ্গে রয়েছেন আরও কয়েকজন যুবলীগ নেতা। তাদেরই একজন ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট।

খালেদ গ্রেফতার হওয়ার পরই কাকরাইলে যুবলীগের কার্যালয়ে অবস্থান নেন ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। ওই কার্যালয়ের সামনে হাজারখানেক নেতাকর্মীও অবস্থান নেন। রাত ৩টার পরও কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের ভিড়ের কারণ জানতে চাইলে সম্রাট গণমাধ্যমকে বলেন, আমার কাছে নেতাকর্মীরা প্রতিদিনই আসেন। রাত ১টা-২টা পর্যন্ত থাকেন। এটি নতুন কিছু নয়। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার থেকে তাকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না।

অনেকেই সন্দেহ করেছিলেন, সম্রাট একটি প্রভাবশালী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে আছেন। তাকে যে কোনো সময়ে গ্রেফতার দেখানো হতে পারে। তবে বিষয়টি পুলিশের কোনো সংস্থা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা হয়নি।