বাচ্চুসহ তার অনুসারিদের গ্রেফতার দাবি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির

16

অনলাইন ডেস্কঃ
বিভিন্ন খুনের মামলার আসামী ও পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজির অভিযোগে শ্রমিক নেতা ইসমাইল হোসেন বাচ্চু সহ তার অনুসারিদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনষ্টিটিউট মিলনায়তনে সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় এ দাবি জানান পরিবহন নেতারা।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি ও বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা। সভায় ১২০টি জেলা সমিতি, ইউনিটের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ তিন শতাধিক নেতা এতে অংশ নেন। ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল থেকে বিতাড়িত শ্রমিক নেতা ইসমাইল হোসেন বাচ্চু গংরা পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ও অপপ্রচার চালানোর ঘটনায় বৈঠকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। পাশাপাশি খুন ও চাঁদাবাজির অভিযোগে অভিযুক্ত বাচ্চুকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনাতে আইনশৃঙ্কলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান পরিবহন নেতারা। সভায় সমিতি পরিচালনার জন্য যৌক্তিক হারে চাঁদা আদায় ব্যতিত অন্যসব অবৈধ চাঁদা আদায় বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও মাদককে নিরুৎসাহিত করতে পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে প্রতি মাসে জেলা সমিতি ও ইউনিটের পক্ষ থেকে কর্মসূচী গ্রহণেরও সিদ্ধান্ত হয়।

এর আগে গত তিন অক্টোবর ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্যলীগ’র ব্যানারে ঢাকাস্থ পরিবহন সেক্টর দখলের অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। জাতীয় প্রেসক্লাবে পরিষদের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগের কথা জানানো হয়।

সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, এক অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবে ইসমাইল হোসেন বাচ্চুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্যলীগের ব্যানারে সাংবাদিক সম্মেলন করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যার বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করে। মূলত পরিবহন সেক্টরে অস্থিরতা সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়েই তিনি এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ আবুল কালাম বলেন, বর্তমানে রাজধানীর পরিবহন সেক্টরে অস্থিরতা সৃষ্টিকারী ইসমাইল হোসেন বাচ্চু একসময় ফুলবাড়িয়া টার্মিনালের ফুটপাতের হকার ছিল। পরবর্তীতে সে শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হয়। তার বিরুদ্ধে পরিবহন চাঁদাবাজি, শ্রমিক ও মালিকদের নির্যাতনের অভিযোগ তুলে কালাম বলেন, এক সময় ইউনিয়নের কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করে বাচ্চু। ২০১৭ সালে টার্মিনালের শ্রমিকরা বাচ্চুকে অপমান অপদস্থ করে টার্মিনাল থেকে বের করে দেয়। তাছাড়া বাচ্চুর সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সবাই ছিল বহিরাগত। তাদের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত শাহ আলম ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ফ্রিডম রাসুর ঘনিষ্ঠ সহযোগি, যদিও রাসু এখন কারাগারে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কথিত ইসমাইল হোসেন বাচ্চু কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। ২০১২ সালে সে নিজের মেয়ের জামাতা ও বাস মালিক জামাল উদ্দিনকে প্রকাশ্যে হত্যা করে। সেই মামলার প্রধান সাক্ষী ছাত্রলীগ নেতা সাজ্জাত হোসেন সাকিলকেও সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে হত্যা করায় বাচ্চু। আলাউদ্দিন নামে একজন মেম্বার প্রার্থীকে হত্যার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। বাচ্চুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় পাঁচটি মামলার কথা উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, খুনের মামলা থেকে বাচার জন্য সে ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্যলীগ নামে একটি কমিটি ঘোষণা করেছে।