পল্লবীতে অগ্রদুত ক্লাবের নামে অবৈধভাবে প্লট দখলের অভিযোগ

24

মিরপুর প্রতিনিধি:
নগদ টাকায় প্লট কিনে প্লটের প্রকৃত মালিক মান্নান এখন দিশেহারা। অগ্রদুত ক্লাবের নামে প্লট দখল করে রেখেছে স্থানীয় ভুমিদস্যু চক্র। শুধু দখল নয় সেই প্লটের একাংশ দিয়ে প্রায় ৭/৮টি দোকান বানানোর কাজ চলছে পুরোদমে, আমি আমার প্লটের কাছে গেলেই আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে ক্লাবের কিছু সদস্য। এভাবেই ক্লাবের বিরুদ্ধে এই দখলের অভিযোগ করেছেন মান্নান। পল্লবী থানায় জিডি, মিরপুর ডিসি অফিসে অভিযোগ দায়ের করেছি।

অভিযোগকারী মান্নান জানান, মিরপুর ১২নং সেকশনের ডি ব্লক, এভিনিউ ২ এর গ্রুপভিত্তিক ১৫নং প্লটটি আমরা ১৩জন মালিকানায় নগদ টাকায় কেনা সম্পত্তি। এক সাইডে বাউন্ডারীসহ ৫.৬৩ কাঠা জমিটি বর্তমানে পল্লবীতে অগ্রদুত ক্লাব নাম দিয়ে দখল করার পায়তারা করছে স্থানীয় কিছু ভুমি দস্যু সন্ত্রাসীরা। আমার প্লটটির মালিকগণ আমাদের কেনা সম্পত্তিতে গত ২৬ অক্টোবর-২০১৯ গেলে অজ্ঞাতনামা বেশ কিছু ব্যক্তি এই প্লটটি তাদের প্লট বলে দাবী করে। এক পর্যায়ে তারা আমাদের গায়ে হাত তোলার চেষ্টা করলে আমরা আমাদের প্রাণভয়ে চলে এসে নিকটস্থ পল্লবী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে বিষয়টি অবগত করি এবং একই তারিখে থানায় একটি জিডি করি জিডি নং-২৭০৮, তারিখ-২৬ অক্টোবর ২০১৯।

আব্দুল মান্নান আরও জানান, পরদিন কিছু অংশীদারসহ আমাদের প্লটে গিয়ে দেখি সেখানে বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতনামা লোক প্লটের একপাশে ক্লাবের পক্ষ হতে দোকান ঘর তৈরীর চেষ্টা করছে। আমরা বাধা দিলে তারা আমাদের সাথে খুবই খারাপ ব্যবহার করে ও মারমুখি আচরণ করে। পরে আমরা প্রানভয়ে চলে আসি এবং বিষয়টি থানা পুলিশকে পুনরায় অবগত করি। পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কোন এক অজ্ঞাত কারনে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলামকে ফোন দেয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আব্দুল মান্নান আরও জানান, আমাদের জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের বরাদ্ধকৃত গ্রুপভিত্তিক প্লট। প্লট দখলপত্র, দায়মুক্তির সনদপত্র, লিজ দলিল, নামজারী, ওয়ারিশ নামজারীপত্র, বিক্রয় ও হস্তান্তরের অনুমতিপত্রসহ সাব-কবলা দলিল আমাদের ১৩জনের নামে আছে। তারপরও আমাদের প্লটটি ক্লাবের নামে দখলের পায়তারা করা হচ্ছে। আমরা সবাই প্রানভয়ে ভীত রয়েছি। তারা আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। আমরা খোজনিয়ে জানতে পেরেছি, আমাদের প্লট যারা দখলের চেষ্টা করছে তারা খুবই খারাপ প্রকৃতির লোক। তারা অগ্রদুত ক্লাব নাম দিয়ে আমার প্লটটি দখলের চেষ্টা করছে। তারা সেখানে মাদক সেবন থেকে শুরু করে নানান অপকর্ম করে। আমি শুনেছি বিএনপি-জামাত আমলে এখানে লোক ধরে নিয়ে এসে মুক্তিপন ও চাদাবাজির টাকার ভাগ-বন্ঠন আদায় করা হতো। এখনও তাদের চাহিদামতো চাদা না দিলে ভুক্তভোগীদের ধরে নিয়ে এসে অত্যাচার করে। ক্লাব নামের অন্তরালে এটি যেন বিএনপি-জামাতের একটি টর্চারসেল। এদের কবলে পড়ে অনেক সাধারণ নিরীহ মানুষ তাদের সর্বস্ব হারিয়েছে।

আব্দুল মান্নান কান্নাজনিত কন্ঠে বলেন, সকলের পক্ষহতে আমি নিরুপায় হয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধারেখেই স্থানীয় পুলিশের অসহযোগীতার বিষয়ে মিরপুর বিভাগীয় উপ-পুলিশ কমিশনার বরাবরে একটি অভিযোগ দায়ের করেছি। আমার কেনা সম্পত্তির সকল বৈধ কাগজ পত্রাদি থাকার পরও ক্লাবের নামে এই দখলবাজদের কাছে যেন আমরা অসহায় জিম্মি হয়ে আছি।

এ বিষয়ে মিরপুর বিভাগীয় উপ-পুলিশ কমিশনার মোস্তাক আহম্মেদ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।